রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২

আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলীর স্থায়ী জামিন কার্যকর

[print_link]

শানাউল কবির,বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলীর স্থায়ী জামিন কার্যকর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্টার মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী সাক্ষরিত জামিন নামার মাধ্যমে মেয়র মুক্তার আলীর জামিন স্থায়ী করন করা হয়েছে। এক সংবাদ বিবৃতিতে মেয়র নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহিদুজ্জামান শাহিদকে পরাজিত করে নারিকেল গাছ প্রতিক নিয়ে বিপুল ভোটে মুক্তার আলী মেয়র নির্বাচিত হন। বোমাবাজি,হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথমে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর গত বছরের ৬ জুলাই দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত আড়ানী পৌর এলাকার পিয়াদাপাড়া মহল্লায় মেয়র মুক্তারের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মেয়র মুক্তার আলীর বাড়ি থেকে নগদ টাকা, অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার করা হয়।

এর মধ্যে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, দেশীয় তৈরি একটি বন্দুক, একটি এয়ার রাইফেল, শটগানের ২৬ রাউন্ড গুলি, চারটি পিস্তলের ম্যাগজিন, পিস্তলের ১৭ রাউন্ড গুলি, চারটি গুলির খোসা, ১০ গ্রাম গাঁজা, সাত পুরিয়া হেরোইন, ২০ পিস ইয়াবা, নগদ ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং মেয়রের দুটি সই করা চেক জব্দ করা হয়।

চেকে টাকার পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ। এ সময় মেয়র মুক্তারের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪০) এবং দুই ভাতিজা সোহান (২৫) ও শান্তকে (২৩) আটক করে পুলিশ। পরে তাকে আটক করা হয়। এরপর তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গ্রেফতারে তিনি দীর্ঘদিন কারাবরন শেষে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি আবারও পদ ফিরে পান এবং আড়ানী পৌরসভার দায়িত্বে বসেন।

উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নিম্ন আদালত থেকে জামিন না নেওয়ার ফলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চলতি বছরের ৬ জুন রাত ১২টার দিকে মেয়র মুক্তারের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ ।

মেয়ের মুক্তার আলী সংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আমি এই আড়ানী পৌরসভার পর পর ২ বারের নির্বাচিত মেয়র। আমি জনগনের সেবা করে কাটিয়েছি ২০ টি বছর। এখনও আমি জনগনের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছি। সর্ব প্রথম ২০০২ সালে আমি ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করি। সেখানেও বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হই। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারী আড়ানী পৌর নির্বাচনে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হই। এই নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকেই আমি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার স্বীকার । পরবর্তীতে পুলিশ আমার বাড়িতে অভিযান করে নাটকীয় ভাবে অস্ত্র, মাদক উদ্ধার করে। সাথে আমার বাড়ির কাজ করার জন্য গোচ্ছিত টাকাও উদ্ধার দেখানো হয়।

এ সময় তিনি মাদক ও অস্ত্রের বিষয়টি অস্বীকার করে মেয়র বলেন, উদ্ধারকৃত টাকা আমার সারাজীবনে তিল তিল করে জমানো যা বর্তমানে সরকারি কোষাগারে রক্ষিত আছে। এ টাকা ফেরত দিয়ে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন মেয়র মুক্তার আলী।

পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাউন্সিলর বৃন্দ এবং মেয়র মুক্তার আলীর কর্মী, সমর্থক ও এলাকার সুধিজন সহ সর্বসাধারণ তাদের পৌর পিতা মেয়র মুক্তার আলীর মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির দাবী জানান।

আরোও

আলোচিত সংবাদ

error: Content is protected !!