সোমবার, নভেম্বর ২৮, ২০২২

প্রতারণার স্বীকার বাঘার চার যুবক সৌদি আরবে কাটাচ্ছেন দূর্বিষহ জীবন

[print_link]

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চার যুবক প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে এমনকি ধার দেনা করে এবং কিস্তিতে টাকা তুলে অন্যের হাতে দিয়ে পাড়ি জমান সৌদি আরবে।ভালো কোম্পানিতে চাকুরী, আকর্ষনীয় মাসিক বেতন, সৌদি আরবে পৌঁছানোসহ এক বছরের আকামা। এমন লোভনীয়

প্রতিশ্রুতিতে ভড়কে জান রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউসা হেদাতি পাড়া এলাকার মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে হাকিবুর (৩৫), আব্দুল মজিদের ছেলে সোহেল রানা (২৭), তহির উদ্দিনের ছেলে ফয়েজ উদ্দিন (৫০) ও আবুল কালামের ছেলে আসাদুল ইসলাম (২৬)। তারা একই এলাকার মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে সৌদি প্রবাসী ইব্রাহিমের মাধ্যমে সৌদি আরবে যেতে টাকা ও সম্পত্তি তুলে দেন প্রবাসী ইব্রাহিমের স্ত্রী স্বপ্নার হাতে। অনেক তালবাহানার পরে ইব্রাহিম তাদের চারজন কে নিয়ে যায় সৌদি আরবে। সৌদিতে পা রাখার পর থেকে স্বপ্ন ভাংতে শুরু করে এ-ই চার যুবকের। তিন মাস ভিসার মেয়াদ থাকায় কাজ পেয়েছিলেন একটি কোম্পানিতে বেতন পেয়েছে মাত্র ১ মাসের। বর্তমানে তাদের আকামা ও চাকরি না থাকায় খেয়ে না খেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষে মিঠুন আলী বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

তবে এখন আকামা করে দেওয়ার বিষয়ে বলতে গেলে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না ইব্রাহিম। বরং বৃহৎ অংকের টাকা ও টাকার পরিবর্তে জমি লিখে নিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করছে প্রবাসী ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী স্বপ্না। এছাড়াও কৌশলে ৪ যুবককে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে বিপদে ফেলেছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের পরিবারের।

ভুক্তভোগীদের পরিবার সুত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে যেতে ৪ লক্ষ টাকা করে লাগবে প্রথমে এ-ই কথা বললেও পরে জোর পূর্বক আরও ১ লক্ষ টাকা সহ জন প্রতি মোট ৫ লক্ষ টাকা নেয় প্রবাসী ইব্রাহিম-স্বপ্না দম্পত্তি। তিন জনের কাছ থেকে মোট ১৫ লাখ টাকা নেয় এবং অপরজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ কাঠা জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় ইব্রাহিমের স্ত্রী স্বপ্না বেগম। এরপর তাদের পাঠানো হয় সৌদিতে। কিন্তু আকামা ছাড়া কোন কোম্পানীতে চাকরিও করতে পারছে না। এমনকি আকামা (বৈধতা) না থাকায় তারা খেয়ে না খেয়ে প্রায় দেড় মাস যাবৎ গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। তারা আরো জানান, বিষয়টি ইব্রাহিমের স্ত্রী কে বললে সে খুব খারাপ ব্যবহার করছে। এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য লোকজনদের কাছে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। আমরা সবাই ইব্রাহিমের বড় ভাই প্রভাষক আবু হাত দিয়ে টাকাগুলো স্বপ্নাকে দিয়েছিলাম। এছাড়াও এলাকার সবাই জানে লেনদেনের বিষয়ে।

আরোও

আলোচিত সংবাদ

error: Content is protected !!