রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

বাঘা থানা পুলিশের সহযোগীতায় র‍্যাব ১২ এর অভিযানে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী অস্ত্র সহ গ্রেফতার

[print_link]

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি নয়ন শেখকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে র‍্যাব ১২ অভিযানে বাঘা থানা পুলিশের সহযোগীতায় উপজেলার পলাশী ফতেপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ০১টি বিদেশি পিস্তল এবং ০৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল ২০১৬ তারিখ রাত সাড়ে ৮ টার সময় মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ফকিরাবাদ এলাকায় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা করে মুজিবর রহমান মাস্টার ও তার ভাই মিজানুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

ভিকটিমদের ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতনীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এলাকার বখাটে কিশোর আরিফুল ইসলাম এবং তার আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক তাহারা নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের ছেলে জাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ২৬ এপ্রিল ২০১৬ তারিখ ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নাম্বার- ১৭,তারিখ- ২৬/০৪/২০১৬ ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/ ৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০, জিআর-৬৬/২০১৬। এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ০১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক আসামি নয়ন শেখ সহ ০৪ জন আসামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড ও প্রত্যেককে ৫০,০০০/- টাকা জরিমানা, ০৭ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০,০০০/- টাকা জরিমানা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত ০১ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ০১ জন আসামিকে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

পলাতক মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি নয়ন শেখকে গ্রেফতারের ব্যাপারে র‍্যাব উদ্যোগী হয়ে গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ক্যাম্প, র‍্যাব-১২ অভিযান পরিচালনা করে (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পলাশী ফতেপুর গ্রাম থেকে বাঘা থানা পুলিশের সহযোগীতায় নয়ন শেখকে গ্রফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ০১টি বিদেশি পিস্তল এবং ০৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আটককৃত নয়ন শেখ কুষ্টিয়ার
ভেড়ামারা উপজেলার ফকিরাবাদ গ্রামের
নজরুল শেখের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত নয়ন’কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুজিবর রহমান মাস্টার ও মিজানুর রহমান হত্যাকান্ডে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে। এছাড়াও সে একটি অস্ত্র মামলা, একটি ছিনতাই মামলা ও একটি ডাকাতি মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে।

গ্রেফতারকৃত নয়ন শেখ এলাকায় কখনও নয়ন বন্ড, নয়ন ডাকাত ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল। হত্যাকান্ডের পর সে প্রথমে
ঢাকায় পালিয়ে যায়। তারপর কোর্টে আত্মসমর্পণ করে এ মামলায় দেড় বছর জেল খাটে। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে জামিন বাতিল হওয়ায় সে ভারতে পালিয়ে যায়। সেখানে সে এক গৃহস্থের বাড়িতে মহিষের রাখাল হিসেবে কাজ করতো। ভারতে থাকা অবস্থায় সে কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বালুর ইজারাদারের নিকট বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিজস্ব ট্রলার যোগে মাদক ব্যবসা, মারামারি ইত্যাদি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

উক্ত হত্যাকান্ড সম্পর্কে নয়ন শেখ জানায়, প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ ছাড়াও সমন্বয় এবং পরিকল্পনার সাথে সে যুক্ত ছিল। এছাড়া তার নামে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা ও দৌলতপুর থানায় ১টি অস্ত্র মামলা, ১টি ডাকাতি, ২টি মারামারি ও ১টি ছিনতাই মামলা সহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী নয়ন শেখ একজন কুখ্যাত সন্ত্রাস। গ্রাম পুলিশ, মেম্বর, চেয়ারম্যান, থানা পুলিশ ফোর্স ও র‍্যাব ফোর্স সহ সকলের সহযোগীতায় তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় নয়ন শেখের হেফাজত থেকে ০১টি বিদেশী পিস্তল ও ০৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

আরোও

আলোচিত সংবাদ

error: Content is protected !!