সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা অসহায় পরিবার

শানাউল কবির, রাজশাহীঃ

মাছিম আলী (৪৫)। মা বাবার ১০ সন্তানের মাঝে তিনি নবম। খুব কষ্টে বড় হয়েছেন মাছিম। স্ত্রী শাহানা বেগম (৩৫)। মাছিম – শাহানা দম্পতির ১৫ বছর বয়সের একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে। পৈতৃক সুত্রে পাওয়া ৫ কাঠা জমিতে কিছু চাষ আর দিন মজুরি কাজ করে চলে সংসার। তিনি গত কয়েক মাস আগে নিজের জমানো কিছু টাকা আর সাথে ব্র্যাক ব্যাংক এর লালপুর উপজেলার আটটিকা বেরিলাবাড়ি ইউনিয়ন শাখা থেকে ঋণ নিয়ে কিনে ছিলেন ২টি গরু। গোয়ালে বাঁধা গরু দুটির দিকে তাকিয়ে কতোইনা স্বপ্ন বুনতেন মাছিম ও তার স্ত্রী। সেই স্বপ্ন যে নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে তা কে জানতো ?

হঠাৎ করেই অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয় গরু দুটি। মাছিম প্রথমে স্থানীয় প্রণী পল্লী চিকিৎসক এবং পরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছে। তাতেও কোন লাভ হয়নি। অবশেষে গত বুধবার (২৩,২৫ আগষ্ট) ২দিনের ব্যাবধানে দুইটি গরুই মারা যায়।
তার পরিবারের শেষ সম্বল হারানোর শোক সইতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মাছিমের স্ত্রী শাহানা। এ সময় উপস্থিত লোকজন শাহানাকে চিকিৎসার জন্য বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ঠিকই কিন্তুু এ হারানো কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না তিনি।

মাছিমের প্রতিবেশীরা জানান, মাছিম শাহানার অনেক কষ্টের সংসার। হঠাৎ করে এমন ঘটনায় তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। গরু দুইটির মৃত্যুর পর একটি গোয়াল ঘরের সামনে অপরটি বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে পুঁতে রেখেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার যদি কোন সহযোগীতা করে তবে একটি অসহায় পরিবার ঋণের দায় মুক্ত হবে।

মাছিমের স্ত্রী জানান, ব্র্যাক অফিস থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলাম। আশা ছিল, গরু বিক্রি করে সংসারে বাড়তি টাকা আসবে। কিন্তু অসময়ে সেই গরু মারা যাওয়ায় আশা তো পূরণ হলোই না বরং
ঋণের বোঝা কাঁধে রয়ে গেল। এমনিতেই অভাবের সংসার, নূন আনতে পান্তা ফুরায়। তার উপর ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা।

মাছিম আলী বলেন, আমি দিনমজুরি কাজ করি, কোন মতে সংসার চালায়। ওয়ারিশ সুত্রে পেয়েছি মাত্র ৫ কাঠা জমি। অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম। আমাদের একমাত্র মেয়ে বড় হচ্ছে তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এনজিও থেকে লোন নিয়ে ২টি গরু কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম দিনমজুরি কাজের পাশাপাশি গুরু ২টা লালন পালন করলে বাড়তি টাকা আসবে। আমার স্ত্রী গরু দইটির খুব যত্ন করতেন। আমার গোয়াল ঘর খালি করে গরু দুটো মারা যাবে ভাবতেই পারিনি। এখন খালি গোয়ালে চোখ পড়তেই বুকের ভেতরটা কেমন জানি হয়ে ওঠে। এক দিকে ঋনের টাকা, অন্য দিকে সংসার ভেবে পাচ্ছি না এখন আমি কি করবো?

মাছিম আলী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজু বাঘা ইউনিয়নের ঢাকা চন্দ্রগাতী গ্রামের মৃতঃ হামিদ প্রাং এর ছোট ছেলে।
মাছিম আলীর দুইটি গরু মারা যাওয়ায় প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের শেষ সম্বল ২টি গরুর মৃত্যু হওয়ায় এখন তাদের সংসারে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে অভাব। ফলে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন মাছিম ও তার পরিবার।

সহায় সম্বলহীন মাছিম কি ভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে এমন সংঙ্কায় দিশেহারা অসহায় পরিবার রয়েছে দুশ্চিন্তায়।

এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংক এর বেরিলাবাড়ি শাখার শাখা ব্যাবস্থাপক মুঠোফোনে জানান,সাহীনা ও মাছিমের ২টি গরুর হঠাৎ মৃত্যুর বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু গবাদিপশুর উপর নেওয়া ঋন আকষ্মিক ভাবে গবাদিপশুর মৃত্যু হলে ঋন কি মওকুফ হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ ঋন স্কিম নতুন হওয়ায় এমন তথ্য কর্তৃপক্ষ এখনও আমাদের জানায়নি। এছাড়াও এমন ঘটনাও আগে কখনও ঘটেনি। আপনার মাধ্যমে যেহেতু জানতে পারলাম বিষয়টি নিয়ে উপর মহলে অবশ্যই কথা বলবো।

আরোও

আলোচিত সংবাদ