সোমবার, নভেম্বর ২৮, ২০২২

অটোচালক সুলতান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন : দুই আসামী গ্রেফতার।

[print_link]
আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে অটোচালক সুলতান মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ছিনতাই হওয়া ব্যাটারী চালিত অটো উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটায় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জেলা পুলিশ কর্তৃক এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারে যে, কালীগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম ইশোরকোল সাকিনস্থ ইশোরকোল হাই স্কুল সংলগ্ন রুদ্রেশ্বর-কাকিনা হয়ে তিস্তা নদী গামী ক্যানেলের পাড়ে পানিতে একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষের গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষনিক কালীগঞ্জ থানার অফিসার ও ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত সুলতান মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও তার পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে নিহতের পরিবার ঘটনাস্থলে এসে তার পরিচয় সনাক্ত করে। এরপর সুলতান মিয়ার পিতা মোঃ আব্দুল গফুর (৭০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন। জেলা পুলিশের নির্দেশনায় হত্যাকান্ডের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে  তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে র‍্যাবের সহায়তায় মামলার ঘটনার সহিত সরাসরি জড়িত আসামী ১। মোঃ সুজন চৌধুরী (৪০) গ্রেপ্তার করে। আসামী সুজনের পিতা মৃত বাবুল চৌধুরী রংপুরের তাজহাট এলাকার বাসিন্দা। আসামী সুজনের তথ্য মতে অপর আসামী মোঃ মমিনুর ইসলাম (২০) ও গ্রেপ্তার হয়, মমিনুর লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ কাকিনা এলাকার  নজরুল ইসলামের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যায় যে, গত ৭/৮ মাস পূর্বে আসামী মোঃ মমিনুর ইসলাম এর সাথে আসামী মোঃ সুজন চৌধুরীর রংপুর পার্কের মোড়স্থ দোকানে চা খেতে এলে তার সাথে পরিচয় হয় । গত ০২/০৯২০২২খ্রি. বিকাল বেলা আসামী মমিনুর সুজন চৌধুরীর দোকানে চা খেতে এলে মমিনুর তাকে তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকার কারণে হাতে টাকা পয়সা না থাকায় তাকে টাকার জন্য একটা অটো ছিনতাই করার প্রস্তাব দেন। সুজন চৌধুরী তাকে একটা অটো রিক্ত (মিশুক ভাড়া করে দেওয়ার কথা বলে। সেই মোতাবেক গত ৫/৯/২০২২খ্রি. সকাল অনুমান ১০টার পর আসামী সুজন এর ব্যবহৃত মোবাইল থেকে তার পূর্ব পরিচিত অটো চালক সুলতান মিয়াকে ফোন দেয়। বিকাল অনুমান ৪.৩০ ঘটিকার সময় আসামী মমিনুর রংপুর পার্কের মোড়ে আসামী সুজনের দোকানে আসে । সেখানে তারা একটা অটো রিক্স (মিশুক) ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে। আসামী সুজন অটো ভাড়া করার দায়িত্ব নেয় এবং আসামী মমিনুরকে অজ্ঞান করার মেডিসিন সংগ্রহ করতে বলে। বিকাল ৫ঘটিকায পূনরায় আসামী সুজন এর মোবাইল থেকে অটো চলক ভিকটিম সুলতানের মোবাইলে ৩ (তিন) বার ফোন করলে আসামী সুজন তাকে তার অটো রিক্সাটি নিয়ে রংপুর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে আসতে বলে। এরপর আসামী সুজন চৌধুরী অপর আসামী মমিনুরকে ফোন দেয় এবং তাকে অজ্ঞানের মেডিসিন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে আসতে বলে। তৎপ্রেক্ষিতে আসামী সুজন চৌধুরী ঘটনার দিন রাত অনুমান ৮:৩০-০৯.০০ঘটিকার মধ্যে সুজনের দোকান রংপুর পার্কের মোড় থেকে ০১ টি ধারালো চাকু নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে আসে এবং সেখানে ১০:১৫মিনিট পরে আসামী মমিনুর ও ভিকটিম সুলতানের সাথে আসামী সুজন চৌধুরীর দেখা হয়। আসামী সুজন চৌধুরী ও মমিনুর সুলতানের অটোতে চড়ে গঙ্গাচড়া মহিপুর ব্রিজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে আসামী মহিনুরকে জিনসেন নামীয় সিরাপটি দিলে সে তার মধ্যে ২.৫ এমজি মাত্রার দুটি ঘুমের ট্যাবলেট কৌশলে সিরাপের মধ্যে মিশিয়ে দেয়। মহিপুর ব্রিজ পার হয়ে ব্রিজের সামনে সেক্সের ঔষধের কথা বলে অটো চালক সুলতানকে জিনসেন সিরাপ খাওয়ানো হয়। এরপর আসামী সুজন চৌধুরী ও মমিনুর সুলতানের অটো গাড়ীতে করে কাকিনা কামার পাড়া পোনা মার্কেটে গেলে সুলতান ঘুমের ঔষধের প্রভাবে টালমাটাল হলে আসামী মমিনুর অটো চালকের সিটের পাশে বসে তার এক হাত ধরে রেখে অন্য হাতে অটো চালিয়ে রাত অনুমান ১১টার পরে কালীগঞ্জের ইশোরকোল গ্রামের তার বোনের বাড়ির সামনে নিয়ে যায়। আসামী সুজন চৌধুরী ভিকটিম সুলতানকে ধরে অটো থেকে নামিয়ে  ইশোরকোল হাই স্কুলের সামনে ক্যানেলের কাছে নিয়ে যায়। পরে দুজনের পরামর্শ মতে প্রথমে তাকে ফেলে রেখে যেতে চায়। কিন্তু পরক্ষণেই ভিকটিম সুলতান মিয়ার জ্ঞান ফিরলে আসামী সুজন চৌধুরীর নামে অভিযোগ করতে পারে ভেবে সুজন চৌধুরীর সাথে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে তার গলা কেটে হেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার গলা কেটে ধাক্কা মেরে তাকে ক্যানেলে ফেলে দেয় এবং তার হাতের চাকুটি পাশের ধান ক্ষেতে ছুড়ে ফেলে দেয় । গ্রেফতারকৃত আসামী দ্বয়ের তথ্য মতে RAB ১৩ রংপুর ও তদন্তকারী কর্মকর্তার যৌথ অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও ছিনতাই হওয়া বাটারী চালিত অটো (মিশুক) টি উদ্ধার করিয়া জব্দ করা হয়। ধৃত আসামীছয় মামলার ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করিয়া বিজ্ঞ আদালতে  ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি  দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসুলসহ লালমনিরহাট জেলার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরোও

আলোচিত সংবাদ

error: Content is protected !!